শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ন
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ডিগ্রি শাখার মসজিদে সম্প্রতি এক বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছে, যেখানে অব্যাহতি পাওয়া ইমাম মারুফ বিল্লার অনুসারীরা কলেজের জাতীয় পতাকার স্ট্যান্ডে জুতা ঝুলিয়ে দেয়। এই ঘটনা ঘটে শুক্রবার (৭ মার্চ) জুমার নামাজের পর, কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে।
একটি ২৫ সেকেন্ডের ভিডিও মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, খুতবার আগে মসজিদের মিম্বরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কথা বলেন। তারা জানান, ভিক্টোরিয়া কলেজ একটি প্রাচীন ও সম্মানিত প্রতিষ্ঠান, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ কাম্য নয়। তাই তারা কলেজ মসজিদের অব্যাহতি পাওয়া ইমাম মারুফ বিল্লাহকে সম্মানজনক বিদায় দেওয়ার পাশাপাশি নতুন ইমাম নিয়োগের দাবি জানান। তবে এই সিদ্ধান্ত মানেনি মারুফ বিল্লার অনুসারীরা। খুতবা চলাকালে তারা মসজিদ থেকে বের হয়ে যান, এবং নামাজ শেষ হতেই কলেজ প্রশাসনিক ভবনের সামনে থাকা জাতীয় পতাকার স্ট্যান্ডে স্লোগান দিয়ে জুতা ঝুলিয়ে দেয় ৮-১০ জন যুবক।
এর আগে ১৩ জানুয়ারি কলেজের ডিগ্রি শাখার মসজিদে তাবলিগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, যার পর কলেজ প্রশাসন তাবলিগের সাপ্তাহিক তালিম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। এরপর ২০ জানুয়ারি থেকে অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখে মারুফ বিল্লার অনুসারীরা। ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ বিরোধের পরে, ১৮ ফেব্রুয়ারি কলেজ প্রশাসন ইমাম মারুফ বিল্লাকে অব্যাহতি দেয় এবং নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাঈদ আহমেদ বলেন, “এটা কি ধরনের আচরণ? ইমাম যাবে, আসবে, কিন্তু জাতীয় পতাকার অপমান কীভাবে হতে পারে? কলেজ প্রশাসন অবশ্যই আইনি পদক্ষেপ নিবে।”
অব্যাহতি পাওয়া ইমাম মারুফ বিল্লা বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি তো কলেজ ছেড়ে চলে এসেছি, তারপর কী ঘটেছে জানি না।”
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল বাসার ভূঁঞা জানান, “জাতীয় পতাকার অবমাননা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। এটা একদম অগ্রহণযোগ্য। আমরা দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”